টেলিফোন আবিষ্কারের খুঁটিনাটি



আপনারা কি এমন একজন বিখ্যাত লোক কে চেনেন । যার সম্মানে আমেরিকার সকল টেলিফোনে এক মিনিট অবিরাম রিং বাজানো হয় । প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল এর কথাই বলছি যিনি এই টেলিফোন আবিস্কার করেন । বর্তমান সময়ে ফোন ছাডা একটি মূহুর্তও চলেনা আমাদের। আমাদের বর্তমানে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে টেলিফোন । গ্রাহাম বেল বলা হতো বোবাদের পিতা । ৩রা মার্চ মহান এ বিজ্ঞানীর জন্মদিন। স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে এই দিনে জন্মগ্রহন করেন এই মহান বিজ্ঞানী । টেলিফোন ছাড়া বর্তমান দুনিয়ায় প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত । আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন যে টেলিফোন, সেটিকেই তিনি এক উটকো ঝামেলা মনে করতেন। এজন্যেই তিনি নিজের গবেষণা ও অধ্যযন কক্ষে কোন টেলিফোন রাখতেন না। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৯২২ সালের ২ আগষ্ট আগস্ট ৭৫ বছর বয়সে পার্নিসিযাস অ্যানিমিযা রোগে নোভা স্কটিযা, কানাডায় মৃত্যুবরন করেন। মূলত বেল টেলিফোন যন্ত্রের প্রথম পেটেন্ট করেছিলেন বটে কিন্তু তিনি প্রথম আবিষ্কারক নন। অ্যান্তেনিও মিউচি,জোহান ফিলিপ রেইস,এলিসা গ্রে এই দাবি করতে পারেন  । ১৮৫৪ সালে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক টেলিফোন আবিষ্কারের গবেষণায় সফলতা আসে । আর ১৮৬৫ সালে ইটালিয়ান আবিষ্কারক ইনোচেনযো মেনজাডি একটি স্পিকিং টেলিফোন আবিষ্কার করেন। হাঙ্গেরিয়ান আবিষ্কারক থিবেদার পুশকাস সুইচবোর্ড ও পার্টি লাইন আবিষ্কার করে টেলিফোনকে ব্যবহার উপযোগী করে তুলেন। টেলিফোন , দূরভাষ বা দূরালাপনি একটি যোগাযোগ মাধ্যম। তারের মাধ্যমে কয়েক গজ থেকে কয়েক হাজার মাইল দুরের মানুষের সাথে কথা বলার জন্য এ এক অভিনব যন্ত্র। বর্তমানে এর অনেক উন্নতি হয়েছে এবং  প্রতিনিয়ত হচ্ছে। বর্তমানের বহুল ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ভাবনের ধারণা এখান থেকেই এসেছে।

আপনারাদের নিশ্চয়ই এটা জানতে ইচ্ছা হচ্ছে যে কিভাবে টেলিফোন কাজ করে।আসুন আমরা সেটা জেনে নেই।

টেলিফোন তিনটা বিষয়ের উপর কাজ করে।

১। প্রেরক যন্ত্র: এর সাহায্যে শব্দকে তড়িৎ চৌম্বকীয় সংকেতে রূপান্তর করা হয়।

২। মাধ্যম: যে মাধ্যমে উক্ত সংকেত প্রেরিত হবে যথা: ক্যাবল, বায়ু ইত্যাদি।

৩। গ্রাহক: এটি তড়িৎ চৌম্বকীয় সংকেত কে পুনরায় শব্দে রূপান্তর করে।

আমরা যখন কথা বলি তখন টেলিফোনের মাউথপিসের মাইক্রোফোনটি কণ্ঠস্বরের শব্দতরঙ্গকে তড়িৎ সংকেত রূপান্তরিত করে। এ সংকেত টেলিফোনের তার দিয়ে অপর টেলিফোনের ইয়ারপিসে যায়। ইয়ার পিসের স্পীকার তড়িৎ সংকেতকে শব্দে রূপান্তরিত করে, ফলে গ্রাহক বা শ্রোতা শব্দ শুনতে পান এবং কথার জবাব দেন। এ জবাব শ্রোতার টেলিফোন সেটের মাউথপিসের মাইক্রোফোনের সাহায্যে তড়িৎসংকেত পরিণত হয়ে প্রেরকের টেলিফোনে ফিরে আসে এবং প্রেরকের ইয়ারপিসের স্পীকারে শব্দে পরিণত হয়, প্রেরক তখন গ্রাহকের কথা শুনতে পায়।

আর একটি মজার বিষয় আপনি ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে বলেন "HELLO", কিন্তু জানেন কি এই "HELLO" টার প্রচলন, কিভাবে হয়েছিল ?

"HELLO" যে একটা মেয়ের নাম এটাও কি জানা আছে আপনার ?

কি অবাক হয়েছেন ?

ভাবছেন কে ওই মেয়েটা ?

মেয়েটা হচ্ছে মার্গারেট হ্যালো। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল, টেলিফোনের আবিস্কারক এর গার্লফ্রেন্ড !!!

আপনি ফোন আবিস্কারক এর নাম না জেনেও ব্যাবহার করছেন ফোন, আর নাম নিচ্ছেন আবিস্কারকের গার্লফ্রেন্ড এর নাম।

এটাই হচ্ছে ভালবাসা !

মানুষ হারিযে যায়, কিন্তু তার ভালবাসা টিকে থাকে যুগের পর যুগ।

MD. SOHEL RANA
AMERICAN INTERNATIONAL UNIVERSITY OF BANGLADESH
Email: sohelrana1st@gmail.com
https://www.facebook.com/ranavai1st
Z_¨ m~Î t

মন্তব্যসমূহ

  1. মোবাইল ফোন কে আবিষ্কার করেন ও আধুনিক মোবাইলের আবিস্কারের ইতিহাস জানতে এই আর্টিক্যালটি পড়ুন মোবাইল ফোন কে আবিষ্কার করেন

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিবোনাচ্চি রাশিমালা

ইসলামের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুন