আপনি কী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চান?
কম্পিউটার সাইন্সে ভর্তি হয়েছেন মানলাম এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কী সত্যি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চান? আমরা এমন অনেকই আছি যারা স্কুল জীবন থেকেই নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার কিংবা কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসেবে দেখার সপ্ন দেখি। বর্তমান এমন অনেক কম্পিউটার বিজ্ঞানী আছে যারা ৬ টা সেমিস্টার অতিবাহিত করার পরেও এখনো ভাল্ভাবে কম্পিউটার চালাতে পারে না। যদিও তাদের সি.জি.পি. বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত অনেক ভাল। ভাল একটা সিজিপি নিয়ে পাস করে কী করতে পারবে তারা । যে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবার সপ্ন দেখে তার অবশ্যই কিম্পিউটার সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান থাকবে।একটি কম্পিউটারে যেমন অনেকগুলো পার্ট রয়েছে তেমনি কম্পিউটারে ক্যারিয়ার গড়ার অনেক উপায় রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল
- সফটওয়ার ডেভলাপমেন্ট
- নেটওয়ার্কিং
- গ্রাফিক্স ডিজাইন
- গেইম ডেভমলাপমেন্ট
- রোবটিক্স
- প্রবলেম সলভিং
- ব্যাংক জব ।
প্রবলেম
সলভিং
অনেকের কাছে এই নামটা নতুন মনে হতে পারে। সত্যিকার অর্থে আপনার
প্রফেশনাল লাইফে কেউ আপনাকে কোন গানীতিক প্রবলেম সলভ
করতে বলবে না। তবে শুধুমাত্র প্রবলেম
সলভিং এ দক্ষতা অর্জন করতে পারলে গুগল, ফেইসবুক
কিংবা মাইক্রোসফটের উর্ধতন
টিউনে জব পেতে পারেন। প্রবলেম সলভিং
মানে, আপনাকে কিছু সংখ্যক গাণিতিক সমস্যা দেওয়া হবে যা
আপনাকে যেকোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দিয়ে সময়াধান করতে হবে। প্রোবলেম
সলভিং সবার জন্যে না। যাদের গণিতে দক্ষতা খুব বেশী এবং যাদের যতেষ্ট পরিমাণ
ধর্য রয়েছে একমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই প্রবলেম সলভিং ক্যারিয়ারে অন্যতম
ভূমিকা রাখতে পারে। যদি আপনার গণিতে যতেষ্ট দক্ষতা এবং যতেষ্ট পরিমাণ ধর্য
থাকে তাহলে এ.সি.এম করতে পারেন ।এতে আপনার দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে ।
রোবটিক্স
রোবটিক্স যদিও ইলেক্ট্রিকালের একটি সাবজেক্ট কিন্তু এতে প্রোগ্রামিং এর
অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। এর জন্যে আপনাকে মেসিন ল্যাংগুয়েজ সম্পর্কে
ভালভাবে ধারণা নিতে হবে। যদি রোবটিক্স যাবারই ইচ্ছে থাকে
তাহলে EEE ই বেস্ট হবে। তবে মনে রাখতে হবে আপনাকে
ফিজিক্স এবং গণিতে অসম্ভব রকমের পারদর্শী হতে হবে ।
গেইম
ডেভলাপমেন্ট
গেম
ডেভেলপমেন্ট একটি সৃজনশীল শিল্পকলা সম্পর্কিত অ্যাপ্লিকেশন এবং টেকনোলজি। সুন্দর কোনো কিছু নিবিড়ভাবে দেখার জন্য চিত্রকরকে
যেমন উন্মুখ থাকতে হবে, তেমনি থাকতে হবে তার শৈল্পিক উপলব্ধি
যথাযথভাবে ডিজিটাল ফর্মে
উপস্থাপন করার ক্ষমতা। সৃজনশীল এবং
ভিজ্যুয়াল আর্টস্কিল এই দুই মিলিত হয়ে
একটি নির্দিষ্ট লেভেলের আগ্রহ সৃষ্টি
করতে পারলেই চমৎকার ও আকর্ষণীয় গেম
আর্ট ডেভেলপ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে
থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স, মায়া বা ফটোশপ
হলো প্রয়োজনীয় সহায়ক টুল, যা
দিয়ে চিত্রকর বা ডেভেলপাররা সৃষ্টি করতে পারেন ভিজ্যুয়াল।গেম বানানোর
জন্য অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্ম বেশি ভালো। অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্ম জানতে
গেলে অ্যান্ড্রয়েডের অফিশিয়াল সাইটে সব টিউটোরিয়াল দেওয়া আছে।গেম ডেভেলপের
শুরুতে বেসিক জাভা এবং সি++ প্লাটফর্মে গেম বানানো শুরু করা উচিত।
গ্রাফিক্স
ডিজাইন
গ্রাফিক্স
জগতটা আসলে বিশাল। বলা যায় শেষ নেই কোন।
যাদের মধ্যে ভাল ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে এবং যারা ভাল আর্ট করতে পারেন তারা গ্রাফিক্স ডিজাইনকে নিজের
ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন । তবে আপনার মধ্যে ক্রিয়েটিভ চিন্তাভাবনা না থাকলে এই ক্ষেত্রে ভাল সাফল্য পেতে সক্ষম হবেন না।
নেটওয়ার্কিং
কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কম্পিউটার বিজ্ঞানের খুবই
প্রয়োজনীয় একটি শাখা। CCNA বর্তমানে
সময়োপযুগী একটি ক্যারিয়ার বান্ধব প্রফেসনাল কোর্স। নেটওয়ার্কিং এর ক্যারিয়ার গড়তে
আগ্রহী হলে এ কোর্সের বিকল্প নাই। যারা অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্র্রহী না ,
অফিস চাকুরী যাদের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন তাদের জন্য নেটওয়ার্কিং
শিখার পরামর্শ দিব। শুধু নেটওয়ার্কিং শিখলেই হবেনা, সেই
সাথে CCNA সার্টিফিকেটটিও অর্জন করতে হবে। আর এ সার্টিফিকেটটি
থাকলে বাংলাদেশে সবচাইতে টপ চাকুরী সেক্টরগুলোতেই(ব্যাংক, টেলিকমিউনিকেশন, টিভি চ্যানেল, কর্পোরেট কোম্পানী) চাকুরীর ব্যাপারে আপনার চাহিদা তৈরি হবে। মজার
ব্যাপার হচ্ছে, এসব বড় বড় সেক্টরগুলো নেটওয়ার্কিং এক্সপার্ট
হিসেবে ঢুকতে হলে অ্যাডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ডটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। যেকোন
সেক্টরে গ্রাজুয়েট হলেই হবে। শুধু CCNA সার্টিফিকেটটা
থাকতে হবে।
সফটওয়ার
ডেভলাপমেন্ট
আপনার
কি রাতের বেলায়আইডিয়ার ঠেলায় ঘুম আসেনা?
তাহলে আপনিই সফটওয়ার ডেভলপমেন্টে ভাল করবেন।কারণ ইন্ডাস্ট্রী ক্রিয়েটিভিটি চায়। দিন যাচ্ছে আর মানুষের
কাছে চাহিদা বাড়ছে নতুন নতুন টেকনোলজির। সুতরাং নতুন কিছু বানানোর মত
ক্ষমতা আপনার থাকতে হবে। মুটামুটি ৫০ শতাংশ সি.এস.ই পড়ুয়া ছেলে মেয়ের ইচ্ছে একজন সফটওয়ার
ডেভলাপার হওয়া । হয়ত আপনিও সফটওয়ার
ডেভলাপার হতে চান। সবাই চাইলেই প্রবলেম সলভার হতে পারে না কিন্তু আপনি চাইলেই
সফটওয়ার ডেভলাপার হতে পারবেন। তবে এর জন্যে আপনাকে আরো গভীরে গিয়ে চিন্তা
করতে হবে। আপনি কী নিয়ে সফটওয়ার ডেভলাপ করবেন?
আপনি কী মোবাইলের জন্যে
সফটওয়ার বানাবেন নাকি বিভিন্ন কম্পানির জন্যে সফটওয়ার বানাবেন। এই সফটওয়ার
ডেভলাপমেন্টের রয়েছে অসংখ্য প্লাটফর্ম।
রয়েছে ওয়েব প্লাটফর্ম রয়েছে ডেক্সটপ কিংবা মোবাইল। প্রথমে প্লাটফর্ম
নির্বাচন করুন। অতঃপর আরো গভীরে গিয়ে চিন্তা করেন। আপনি কিসের সাথে কাজ করতে
চান ।
ব্যাংক জব
সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানেই কম্পিউটার
সাইন্সে গ্র্যাজুয়েট বা আইটি জনবল প্রয়োজন হয়
।ব্যাংকের ডাটাবেজ রক্ষনাবেক্ষন এর জন্য লোক দরকার ।ব্যাংকের নিজস্ব সিস্টেম
সাপোর্ট দেয়ার জন্য লোক প্রয়োজন । বর্তমানে সকল ব্যাংকই সফটওয়্যার ও ইন্টারনেট এর
উপর পুরপুরি নির্ভরশীল ।তাই এখানে কি পরিমান আইটি স্পেশালিষ্ট প্রয়োজন তা অনুমান
করা যায় ।
পরিশেষে,
সিএসই পড়তে গেলে যেই জিনিসটা খুবই দরকারী সেটা হলো ক্রিয়েটিভিটি, প্যাশন, লিডারশীপ
কোয়ালিটি এবং অফকোর্স মাথায় রাখতে হবে সবসময় সিএসই অন্য যে কোন সাবজেক্টের চাইতে
আলাদা। এটার সাথে অনেকটা চারুকলা, আর্কিটেকচারের মিল আছে।
যে কোন সাবজেক্টের ইন্ডাস্ট্রীতে চাকরী পেতে হলে লাগে ভালো রেজাল্ট, মামা চাচার জোড়, রুপচাদা খাটি সয়াবিন তেল এবং টিকে
থাকতে গেলে চালিয়ে যেতে হবেপলিটিক্স এবং তেল। এগুলাই উন্নতির চাবিকাঠি। কিন্তু
সিএসইতে তোমার রেজাল্ট যদি ২ পয়েন্ট সামথিং থাকে (আউট অফ ৪), একগাদা ড্রপ কোর্স থাকে, হাতে সার্টিফিকেটও না
থাকে তবুও তুমি ইন্ডাস্ট্রী কাপিয়ে দিতে পারবে যদি তোমার ক্রিয়েটিভিটি, প্যাশন, লিডারশীপ থাকে। তবে সবচাইতে বড় কথা
হচ্ছে তোমাকে ভালবাসতে হবে সাবজেক্টটাকে। স্বপ্ন দেখতে হবে এবং স্বপ্ন সত্যি করার
জন্য এনাফ গাটস থাকতে হবে। সাবজেক্টটার প্রতি ভালবাসা না থাকলে ভাল করা সম্ভব না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন